চলতি বোরো মৌসুমে ইউরিয়া সার উৎপাদন ব্যাহতের শঙ্কা
- আপলোড সময় : ২৩-০১-২০২৬ ১২:২৮:২৭ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৩-০১-২০২৬ ১২:২৮:২৭ পূর্বাহ্ন
* সার কারখানাগুলোতে পর্যাপ্ত গ্যাসের সরবরাহ পাচ্ছে না
* গ্যাসের চাপ না থাকায় আশুগঞ্জ সার কারখানা বন্ধ রয়েছে
* গ্যাসের ইউনিট ১৩ টাকা বাড়িয়ে দৈনিক গড়ে ১৪০ ঘনফুট গ্যাস দিচ্ছে
* পেট্রোবাংলার প্রস্তাবিত গ্যাস দিয়ে চালু রাখা যাবে ঘোড়াশালসহ সর্বোচ্চ দুটি কারখানা
চলতি বোরো মৌসুমে ইউরিয়া সার উৎপাদন ব্যাহতের শঙ্কা বাড়ছে। কারণ দেশীয় সার কারখানাগুলো পর্যাপ্ত গ্যাসের সরবরাহ পাচ্ছে না। দেশের ইউরিয়া সার উৎপাদন ও সরবরাহকারী সংস্থা বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)। সংস্থাটির অধীনে আশুগঞ্জ সার কারখানাসহ পাঁচটি ইউরিয়া সার কারখানা রয়েছে। কিন্তু গ্যাসের চাপ না থাকায় ইতিমধ্যে আশুগঞ্জ সার কারখানা বন্ধ রয়েছে। বাকি ঘোড়াশাল, পলাশ, শাহজালাল এবং চিটাগাং ইউরিয়া সার কারখানার মাধ্যমে বছরে কমপক্ষে ১৮ লাখ মেট্রিক টন সার উৎপাদন করতে প্রয়োজন হবে ১৯৭ মিলিয়ন স্ট্যান্ডার্ড ঘনফুট (এমএমসিএফ) গ্যাসের। কিন্তু পেট্রোবাংলা গ্যাসের ইউনিট প্রতি ১৩ টাকার বেশি দাম বাড়িয়েও দৈনিক গড়ে ১৪০ ঘনফুট গ্যাস দিতে চাইছে। আর পেট্রোবাংলার প্রস্তাবিত গ্যাস দিয়ে চালু রাখা যাবে ঘোড়াশালসহ সর্বোচ্চ দুটি কারখানা। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশে বোরো মৌসুমে রাসায়নিক সারের ৭০ শতাংশের বেশি ব্যবহৃত হয়। কিন্তু গ্যাস সংকটের কারণে এবার বোরো আবাদের আগে দেশীয় সার কারখানাগুলোর ইউরিয়া সার উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে। ইতিমধ্যে হুমকির মুখে পড়েছে ঘোড়াশাল পলাশ ফার্টিলাইজার, শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড, যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি এবং চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড কারখানার উৎপাদনও। দেশে প্রতি বছর ইউরিয়া সারের চাহিদা ৩০ লাখ মেট্রিক টনের বেশি। ওই সার দেশের ধান ও অন্যান্য ফসলের জন্য প্রয়োজন হয়। তার মধ্যে বোরো আবাদের জন্য দরকার প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার।
সূত্র জানায়, ১৮ লাখ মেট্রিক টন ইফরিয়া সার বিসিআইসির অধীন কারখানার মাধ্যমে উৎপাদন ও সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। আর বাকি সার নিয়মিত আমদানি করা হয়ে থাকে সৌদি আরব, কানাডা ও মরক্কোর মতো দেশ থেকে। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহের অভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিসিআইসি অভ্যন্তরীণ ইউরিয়া উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারে না। প্রতি বছরই নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় দেশের কারখানাগুলোতে উৎপাদন হচ্ছে গড়ে ৮ থেকে ১১ লাখ মেট্রিক টন সার। ফলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে বিদেশ থেকে আমদানির সার দিয়ে দেশের চাহিদা মেটানো হচ্ছে।
সূত্র আরো জানায়, বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানির মাধ্যমে দেশের সার কারখানাগুলো চালু রাখার সুপারিশ সরকারের একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটির ছিল। সেক্ষেত্রে এলএনজি আমদানি বাবদ যে অতিরিক্ত ব্যয় হবে, তা সমন্বয় করার জন্য সার কারখানায় প্রতি ঘনফুট গ্যাসের দাম বাড়িয়ে ৩০ টাকা করার প্রস্তাব ছিল। তাছাড়া বছরে ১৮ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদনের লক্ষ্যে সার্বক্ষণিক (১১ মাস বা ৩৩০ দিন) চারটি কারখানা চালু রাখতে গড়ে দৈনিক ১৮০ দশমিক ৮১ এমএমসিএফ গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রস্তাবও ওই কমিটি দিয়েছিল। ওই সুপারিশের পর গত ২৩ নভেম্বর সার কারখানার জন্য প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৯ দশমিক ২৫ টাকা করা হয়। তাতে সার কারখানার প্রতি ইউনিট গ্যাসের জন্য দাম ১৩ টাকার বেশি বাড়ে। কিন্তু দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের পরও পেট্রোবাংলা বলছে, বিসিআইসির চারটি সার কারখানার অনুমোদিত লোডের ন্যূনতম ৭০ শতাংশ হিসেবে দৈনিক গড়ে ১৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করবে। আর বিসিআইসির কর্মকর্তাদের মতে, পেট্রোবাংলার প্রস্তাবিত গ্যাস দিয়ে ঘোড়াশাল সার কারখানাসহ সর্বোচ্চ দুটি সার কারখানা চালু রাখা সম্ভভ। আর তাতে অভ্যন্তরীণ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সার উৎপাদন করা সম্ভব হবে না।
এদিকে এ বিষয়ে বিসিআইসির চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান জানান, গ্যাসের সংকট হলেও আগামী বোরো মৌসুমে সারের সংকট হবে না। কারণ অভ্যন্তরীণ উৎপাদন কম হলেও আমদানির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করা হবে। তাছাড়া ইউনিট প্রতি গ্যাসের দাম বাড়লেও অর্থ বিভাগ ট্রেড গ্যাপ বাবদ অর্থ বরাদ্দ দেয়ায় ইউরিয়া সার বাবদ কৃষকদের অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হবে না।
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
স্টাফ রিপোর্টার